আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আধ্যাত্মিকতার আড়ালে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এক তরুণীকে (৩৫) মাদক খাইয়ে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে ঋষিকেশ বৈদ্য নামে এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ‘ভগবান শিবের অবতার’ দাবি করে ওই তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে পলাতক ঋষিকেশকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে ঋষিকেশ বৈদ্যের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে জাহির করে তিনি দ্রুত তরুণীর আস্থা অর্জন করেন। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে কৌশলে তাকে পুনেতে দেখা করতে বাধ্য করেন ঋষিকেশ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তিনি নিজেকে ‘শিব’ এবং তরুণীকে ‘পার্বতী’ হিসেবে সম্বোধন করে তাকে ধর্মীয় মোহে আচ্ছন্ন করার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, পুনের একটি লজে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীকে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে ঋষিকেশ। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের সময় গোপনে ওই তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন অভিযুক্ত। গত মে মাসে ভাসাইয়ের একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে তাকে আবারও যৌন হেনস্তার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে সম্প্রতি অশোক খরাত নামে অপর এক ভণ্ড ধর্মগুরু গ্রেফতার হওয়ার পর সাহস সঞ্চয় করেন এই তরুণী। তিনি প্রথমে ভাসাইয়ের মানিকপুর থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেন। যেহেতু মূল অপরাধস্থল পুনে, তাই মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুনের হাদাপসার থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে কোনো স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। রাজ্যে একের পর এক ধর্মগুরুর আড়ালে অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে।
পুলিশ ধারণা করছে, ঋষিকেশ বৈদ্য একইভাবে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে আরও অনেক নারীকে প্রতারিত ও শোষণ করে থাকতে পারেন। মানিকপুর ও হাদাপসার থানার তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভণ্ড সাধুদের থেকে সতর্ক থাকার এবং কোনো নির্যাতনের শিকার হলে নির্ভয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।