ক্রীড়া প্রতিবেদক:
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হয়েও টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারার এই চরম ব্যর্থতায় দেশটিতে বইছে সমালোচনার ঝড়। এই পরিস্থিতির দায় নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়ল গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রে আবোদি।
গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় আজ্জুরিরা। এই পরাজয়ের ফলে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ৪৮ দলের ফুটবল মহাযজ্ঞে দেখা যাবে না ইতালিকে।
এই ভরাডুবির পর দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রে আবোদি সরাসরি আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইতালিয়ান ফুটবলকে নতুন করে সাজাতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়া ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকেই শুরু হওয়া উচিত। যদিও গ্রাভিনা এখন পর্যন্ত নিজে থেকে পদ ছাড়তে রাজি হননি, তবে আগামী সপ্তাহের বোর্ড সভায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৮ সালে ইতালির বিশ্বকাপ মিস করার পর তৎকালীন প্রধান কার্লো টাভেসিও পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া গ্রাভিনার আমলেই ইতালি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বমঞ্চের বাইরে থাকল। এই ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা রোমে ফেডারেশনের সদর দপ্তরের সামনে ডিম ছুড়ে তাঁদের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে পরাজয়ের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে গ্রাভিনা দাবি করেছেন, ইতালিয়ান ফুটবল পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি অন্য খেলাগুলোকে অপেশাদার বলে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপে উঠতে না পারার দায় এড়িয়ে রাষ্ট্রকে দোষারোপ করা ভুল এবং অন্য খেলার সাফল্যকে খাটো করে দেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী স্পিড স্কেটার ফ্রান্সেসকা লোরোব্রিগিডাও গ্রাভিনার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, ফুটবলে ইতালি ধুঁকলেও টেনিসে ইয়ানিক সিনারের সাফল্য কিংবা অলিম্পিকে রেকর্ড পদক জয় দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে বড় গৌরব বয়ে এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে রদবদল এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।