নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, থানার ভেতরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চালানো হলেও পুলিশ ছিল নির্বিকার।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পোস্টটি ভুয়া দাবি করে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েই হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিডিও ধারণ করার সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদ জানালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহিসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ স্লোগান দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত। তাঁর চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগায় তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের তালিকায় রয়েছেন কালের কণ্ঠের মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান এবং ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমনসহ আরও বেশ কয়েকজন।
হামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ওবায়দুর রহমান সামিথ, আবুজার গিফারী ইফাত, ইমাম আল নাসের মিশুক, মনসুর রাফি, জুনায়েদ আবরারসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতেই এই মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়।
এই ঘটনার পর রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
এদিকে, থানার ভেতরে এমন নজিরবিহীন হামলার সময় শাহবাগ থানা পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।