
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ফুলহারা বাজারে সরকারি খাল দখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ৪টি গ্রামের শত শত বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে ফুলহারা বাজারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ফুলহারা, মৌহালী, কলিয়া ও গোলাপনগর গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত এবং পুনঃখননের দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলাম এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতি দ্রুত সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সরকারি খালের সঠিক সীমানা পরিমাপ এবং মানচিত্র যাচাই করে অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরিমাপের প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খালটি পুরোপুরি উদ্ধার করা হবে। একই সাথে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে নতুন করে দখলের চেষ্টা চালানো হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান এই খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে সেচ ও চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় হিজুলিয়া–ইছামতি শাখা নদীর দুই তীরের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিলও একই দাবিতে ওই এলাকায় মানববন্ধন করেছিলেন স্থানীয়রা। সে সময় খালের উত্তর পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরবর্তীতে খালের দক্ষিণ পাশে মাটি ভরাট করে দোকান ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালানো হয়, যার পেছনে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর এলাকাবাসী তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই খাল উদ্ধার করে পুনঃখনন কাজ শুরু করার জোর দাবি জানান।