ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের আমতলা-সুঙ্গুরচর এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ ট্যায়ার পোড়ানোর কারখানা। লাইসেন্সবিহীন এই কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার টায়ার পুড়িয়ে তেল ও অন্যান্য উপাদান তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এর আগেও প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটি ভেঙে দেয় এবং জরিমানা আদায় করে। তবে প্রশাসনের সেই কঠোর পদক্ষেপকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় এবং নেপথ্য সহায়তায় বারবার একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার জিয়া দাবি করেছেন, এই কারখানা চালুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাকি মৌখিক স্বীকৃতি রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে রাতের আঁধারে পোড়ানোর জন্য হাজার হাজার টায়ার স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সারা রাত ধরে এসব টায়ার পুড়ানো হয়। টায়ার পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে পুরো এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এই চরম দূষণের কারণে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মানুষের পাশাপাশি এলাকার গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে আশেপাশের কৃষিজমি মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রকাশ্যে এমন অবৈধ ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, এর নেপথ্যের কুশীলব ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ধামরাইয়ের পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।