শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সম্প্রতি চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থানরত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই সম্মেলনে অংশ নেন।
চিয়াংশি প্রাদেশিক সরকারের আয়োজনে এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ এতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতার আওতায় উভয় দেশ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, শিল্প-শিক্ষা সংহতি এবং শিক্ষকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিনটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র উন্মোচন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন। এছাড়া চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রফেসর পেই হংওয়েই। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ "চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ + স্কিল ডেভেলপমেন্ট" কোঅপারেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মো. দাউদ মিয়া এবং প্রফেসর ঝেং পেংউ। এই প্ল্যাটফর্মগুলো পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করতে উভয় দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে রূপান্তর করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক অর্থনীতির উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি আধুনিক ও শিল্প-সংযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিশাল কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মকে মানসম্পন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বমানের জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
চিনের পক্ষ থেকে চিয়াংশি প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ফ্যান হংহুই, চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির পার্টি সেক্রেটারি প্রফেসর পেই হংওয়েইসহ ১৯টি খ্যাতনামা চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন। এই উদ্যোগ ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প খাতের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।