
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ব্রিজের নির্মাণকাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো এর অ্যাপ্রোচ (সংযোজক সড়ক) নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের দুই পাশের অ্যাপ্রোচে মাটি না থাকায় স্বাভাবিকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টির মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হতে হয়। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় সম্প্রতি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের নির্দেশনায় এবং ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান খান কুদরতের নেতৃত্বে ব্রিজের দুই পাশে সরে যাওয়া মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, সাময়িকভাবে মাটি ফেললে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ব্রিজের দুই পাশে আরসিসি ঢালাইসহ টেকসই অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও অ্যাপ্রোচ নির্মাণ না হওয়া সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও শিক্ষার্থী এ পথে যাতায়াত করলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, ব্রিজের অ্যাপ্রোচের মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে এবং বর্তমানে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাটের কাজ চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্রিজের দুই পাশে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও আরসিসি কাজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে এলাকাবাসীর এই যাতায়াত কবে শেষ হবে এবং কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।