
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি ড্রেজার উল্টে গিয়ে জুলহাস নামের এক কর্মচারী নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে উপজেলার আজিমনগর এলাকায় পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেড লোড ড্রেজারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ড্রেজারটি উল্টে পানিতে তলিয়ে যায় এবং এতে কর্মরত শ্রমিক জুলহাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের সহায়তায় তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। নিখোঁজ জুলহাস মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইজারাপ্রাপ্ত সীমানার বাইরে গিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও তাড়াহুড়ো করে বালু উত্তোলনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ এই কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন। অবিলম্বে নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিখোঁজ শ্রমিকের বড় ভাই রউফ মিয়া জানান, লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের অধীনে কাজ করতে এসেই তার ভাই এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ইজারাদার বিল্লাল খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াছিন হোসেন জানান, নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, বিষয়টি প্রশাসন অবগত রয়েছে। নির্ধারিত সীমানার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আগে থেকেই চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।