
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চকমিরপুর ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মিলন হোসেন দিনরাত ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চকমিরপুর ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গিয়ে তিনি সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং প্রবীণদের দোয়া ও তরুণদের সমর্থন কামনা করছেন।
মোঃ মিলন হোসেন দীর্ঘ ২৩ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সুনামের সঙ্গে চাকরি শেষ করে এখন নিজ এলাকার মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চান।
গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণাকালে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এই চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, চকমিরপুর ইউনিয়নকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। ইউনিয়নের অবহেলিত রাস্তাঘাট মেরামত, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন তিনি।
যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে সাবেক এই সেনাসদস্য বলেন, নির্বাচিত হলে চকমিরপুর ইউনিয়নে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বরদাশত করা হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিলন হোসেন বলেন, যত্রতত্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে, যার ফলে কৃষকের ভিটেমাটি ও বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হতে পারলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। অবহেলিত এ জনপদের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে চকমিরপুরকে একটি শান্ত, আধুনিক ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে নির্বাচনী হাওয়ায় মোঃ মিলন হোসেনের এমন জনমুখী প্রতিশ্রুতি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে ঘিরে চকমিরপুর ইউনিয়নের হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।