
ভোরের আলো ফোটার আগেই নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া মহাসড়ক কেঁপে ওঠে এক মর্মান্তিক ও বিকট শব্দে। নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রী বোঝাই এক বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বাস ও ট্রাক উভয়েরই সামনের অংশ একদম দুমড়েমুচড়ে একাকার হয়ে যায়। বাসের ভেতরের যাত্রীরা ভেতরেই আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারে হাত জানান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট এবং হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে হতাহতদের বের করে আনার কাজ শুরু করে। নিহত ও মারাত্মক আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গুরুতর জখম হওয়া কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভোরের নিরবতা ভেঙে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মহাসড়কজুড়ে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের সামনে ছড়িয়ে পড়ে বিষাদ আর স্বজন হারানোর আহাজারি। প্রিয়জনের রক্তাক্ত দেহ ও মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসা আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হলেও পরবর্তীতে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।