
পোশাক খাতের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে বহিরাগতরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে যারা ভাঙচুর ও বিক্ষোভ চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তারা কেউই প্রকৃত পোশাক শ্রমিক নন; বরং তারা বাইরে থেকে আসা একটি দুষ্কৃতকারী ও উৎপাতকারী গোষ্ঠী।
ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে এ মুহূর্তে সড়কে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সাধারণ শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে ডিআইজি জানান, ঢাকা জেলায় ১৫ জন, গাজীপুরে ৮ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১৭ জনসহ মোট ৪০ জন বিশৃঙ্খলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তল্লাশি ও তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের একজনও পোশাক কারখানা বা শ্রমিক পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।
পরিস্থিতির নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন জানান, একটি বিশেষ গোষ্ঠী বোরকা ও হেলমেট পরে পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে পুলিশ মনে করছে। পুলিশ সুপার বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা কখনো নিজেদের রুটি-রুজির মাধ্যম বা কর্মসংস্থান ধ্বংস কিংবা কারখানায় ভাঙচুর চালাতে পারেন না।
পুলিশের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি এখনো কিছুটা উত্তপ্ত। গতকালও নরসিংহপুর ও জিরাবো এলাকায় আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর বন্ধে পুলিশ টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর থেকে শিল্পাঞ্চলের এই অস্থিরতাকে পুলিশ আর স্বাভাবিক কোনো শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে দেখছে না। বরং বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের একটি চিহ্নিত চক্রান্ত হিসেবে গণ্য করে শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।