ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জে সীমানার বাইরে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে নদী তীরবর্তী জনপদ

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ০৩:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পাঠিত

 

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​গত ১৭ আগস্ট ‘জুলাই যোদ্ধা, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী, বয়ড়া ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে ১৬টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

​অভিযোগকারীদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিপজ্জনক স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে গত কয়েক দিনে লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী এলাকার বড় একটি অংশজুড়ে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা এখানকার চরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ ও ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​সরকার বারবার অভিযান চালিয়েও কেন পুরোপুরি দমন করতে পারছে না?

​অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা কিংবা ড্রেজার ভাঙচুরের মতো পদক্ষেপ নিলেও এই অপরাধ পুরোপুরি দমন করা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারণ কাজ করে:

উচ্চ মুনাফা ও লোভ: অবৈধ বালুর বাজারে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন থাকায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনে অপরাধীরা সবসময় বড় অঙ্কের লাভের আশা করে।

ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তা: রাতের আঁধারে বা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ড্রেজার চালানোর কারণে অনেক সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই চক্রটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অদৃশ্য প্রভাব: অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা উপায়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে বা পরোক্ষভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নজরদারির ঘাটতি: পদ্মা নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক পাহারা বা মনিটরিং করা জেলা প্রশাসনের সীমিত জনবলের জন্য সবসময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জে সীমানার বাইরে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে নদী তীরবর্তী জনপদ

প্রকাশ : ০৩:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​গত ১৭ আগস্ট ‘জুলাই যোদ্ধা, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী, বয়ড়া ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে ১৬টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

​অভিযোগকারীদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিপজ্জনক স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে গত কয়েক দিনে লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী এলাকার বড় একটি অংশজুড়ে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা এখানকার চরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ ও ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​সরকার বারবার অভিযান চালিয়েও কেন পুরোপুরি দমন করতে পারছে না?

​অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা কিংবা ড্রেজার ভাঙচুরের মতো পদক্ষেপ নিলেও এই অপরাধ পুরোপুরি দমন করা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারণ কাজ করে:

উচ্চ মুনাফা ও লোভ: অবৈধ বালুর বাজারে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন থাকায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনে অপরাধীরা সবসময় বড় অঙ্কের লাভের আশা করে।

ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তা: রাতের আঁধারে বা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ড্রেজার চালানোর কারণে অনেক সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই চক্রটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অদৃশ্য প্রভাব: অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা উপায়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে বা পরোক্ষভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নজরদারির ঘাটতি: পদ্মা নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক পাহারা বা মনিটরিং করা জেলা প্রশাসনের সীমিত জনবলের জন্য সবসময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।