ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

শ্রীপুরে কারখানায় ফের অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ-তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা! ‎

‎বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ সোহাগ রানা
  • প্রকাশ : ০২:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ বার পাঠিত

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার ‘কালার এন্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় আবারও রহস্যজনকভাবে অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
‎মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে এই ঘটনা ঘটে।

‎অসুস্থ শ্রমিক ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই সুইং বিভাগের বেশ কয়েকজন শ্রমিকের মাথা ঘোরা, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে একই উপসর্গে আরও অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।
‎আল-হেরা হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, তাদের হাসপাতালে ৮০ জন শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
‎কারখানার সুইং অপারেটর হাবিব জানান, ঘটনার পরপরই পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করছে না।

‎উল্লেখ্য, গত জুন মাসে একই কারখানায় লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সে সময়ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এ ধরনের ঘটনায় শ্রমিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।

‎এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সবুজ এবং দৈনিক কালের সমাজ পত্রিকার- শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ আহমেদ হয়রানির শিকার হয়েছেন।
‎সাংবাদিকদের অভিযোগ, কারখানার সামনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে মব তৈরির চেষ্টা করে কারখানার কর্তৃপক্ষের লোকজন। পরে তারা শ্রীপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও ২০-৩০ জন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।

‎এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

‎ঘটনার পর থেকে স্থানীয় শ্রমিক ও এলাকাবাসী শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা কারখানার কর্মপরিবেশ, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এবং পানীয় জলের মান খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

শ্রীপুরে কারখানায় ফের অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ-তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা! ‎

প্রকাশ : ০২:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার ‘কালার এন্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় আবারও রহস্যজনকভাবে অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
‎মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে এই ঘটনা ঘটে।

‎অসুস্থ শ্রমিক ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই সুইং বিভাগের বেশ কয়েকজন শ্রমিকের মাথা ঘোরা, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে একই উপসর্গে আরও অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।
‎আল-হেরা হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, তাদের হাসপাতালে ৮০ জন শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
‎কারখানার সুইং অপারেটর হাবিব জানান, ঘটনার পরপরই পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করছে না।

‎উল্লেখ্য, গত জুন মাসে একই কারখানায় লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সে সময়ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এ ধরনের ঘটনায় শ্রমিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।

‎এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সবুজ এবং দৈনিক কালের সমাজ পত্রিকার- শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ আহমেদ হয়রানির শিকার হয়েছেন।
‎সাংবাদিকদের অভিযোগ, কারখানার সামনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে মব তৈরির চেষ্টা করে কারখানার কর্তৃপক্ষের লোকজন। পরে তারা শ্রীপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও ২০-৩০ জন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।

‎এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

‎ঘটনার পর থেকে স্থানীয় শ্রমিক ও এলাকাবাসী শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা কারখানার কর্মপরিবেশ, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এবং পানীয় জলের মান খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।