ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যস্থতা থেকে সরে দাঁড়ালো কাতার, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ
- প্রকাশ : ০৩:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / ৪৫ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সাথে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘মজবুত আলোচনা’র মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার আকস্মিকভাবে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকারি মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কাতার বর্তমানে কোনো ধরনের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় জড়িত নেই।
ইসরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনার মতো জটিল ইস্যুতে অতীতে সফল ভূমিকা রাখা কাতারের জন্য এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় কৌশলগত বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মূলত গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ব্যর্থতা এবং সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি নিয়ে চরম চাপে রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করতে দেশগুলোকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার কথা বললেও সমান্তরালভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ওমানের নেতৃত্বে চলমান আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শান্তি প্রস্তাবের প্রতি এখন গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে আরব দেশগুলোর মধ্যে। সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যস্থতার আড়ালে এই আলোচনাগুলো শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযানের কৌশল বা ইরানি নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে— এমন আশঙ্কাই দেশগুলোকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা। শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহতের পর দেশটির নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের ১৫ দফার যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনাকে চরম অন্যায্য বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নাগালে থাকা সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব তেল বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় কুয়েত ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) উচিত ইরানের সাথে সরাসরি নিজস্ব আলোচনার পথ খুঁজে নেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের শান্তি আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিফলন খুবই সামান্য। ফলে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী হিসেবে ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে এখন নিজেদের কৌশল নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে।

















