ইরান সংঘাত ও মার্কিন রণকৌশল: মধ্যপ্রাচ্যের ‘কঠিন ফাঁদে’ আটকা পড়ছে ওয়াশিংটন
- প্রকাশ : ০১:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / ৩৫ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রণক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন এই সংঘাতকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি তাদের জন্য এক ‘কঠিন ফাঁদে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আরটির এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই সংকটের গভীরতা।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এই অভিযানের পেছনে রয়েছে একাধিক লক্ষ্য—ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক শত্রুতার হিসাব চোকানো এবং ইউরেশীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাবকে খর্ব করা। তবে এই পরিকল্পনায় একটি মৌলিক ভুল রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানকে ২০০৩ সালের ইরাক বা ২০০১ সালের আফগানিস্তানের মতো দুর্বল ভাবা হচ্ছে, যা রণক্ষেত্রে ভিন্ন ফল দিতে পারে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাদের প্রভাব যুদ্ধকে অনিয়ন্ত্রিত দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। সামান্য উত্তেজনাও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথকে স্থবির করে দিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে ওয়াশিংটন যতটা দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট বিজয়ের আশা করছে, বাস্তব পরিস্থিতি ততটাই জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি মূলত ন্যূনতম ব্যয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এক সময় এই নীতি কার্যকর মনে হলেও, ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পুরনো ভারসাম্য বদলে নিজের শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে, তখন ইরানের প্রতিরোধ সেই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরাক বা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বিজয় ছাড়াই ফিরে আসতে পেরেছিল, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার যদি যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তাদের একক আধিপত্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ধসে পড়বে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারলে কোনো অভিযানই সফল বলা যাবে না।
এই মুহূর্তে দুই পক্ষের দাবি ও অবস্থান এতটাই বিপরীতমুখী যে, সমঝোতার পথ প্রায় রুদ্ধ। ওয়াশিংটন এখন একটি স্পষ্ট বিজয়ের অপেক্ষায় আছে, কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত মার্কিন অবস্থানকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্বব্যাপী দুর্বল করে দিচ্ছে। অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের এই চোরাবালিতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সফল হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

















