ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ইরান অভিযান শেষ পর্যায়ে, দুই-তিন সপ্তাহে ‘কঠোর’ হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ০১:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৭ বার পাঠিত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

​ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সফলতার দ্বারপ্রান্তে এবং এই যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়ে দ্রুত এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানা হবে।

​২০ মিনিটের দীর্ঘ এই ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ইরানের তেল খাতের ওপর কোনো আঘাত হানা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের উপর্যুপরি হামলার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে সাহসের সঙ্গে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

​এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি এই যুদ্ধকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিজয় দাবির মুখেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

​এদিকে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানে এই সামরিক অভিযানের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইরান অভিযান শেষ পর্যায়ে, দুই-তিন সপ্তাহে ‘কঠোর’ হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশ : ০১:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

​ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সফলতার দ্বারপ্রান্তে এবং এই যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়ে দ্রুত এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানা হবে।

​২০ মিনিটের দীর্ঘ এই ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ইরানের তেল খাতের ওপর কোনো আঘাত হানা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের উপর্যুপরি হামলার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে সাহসের সঙ্গে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

​এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি এই যুদ্ধকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিজয় দাবির মুখেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

​এদিকে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানে এই সামরিক অভিযানের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন।