ইস্টার সানডে উপলক্ষে ইউক্রেনে ৩২ গন্টার যুদ্ধবিরতি ঘেষণা পুতিনের
- প্রকাশ : ০৩:০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৪ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পবিত্র ইস্টার সানডে উপলক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে ৩২ ঘণ্টার একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই সাময়িক বিরতি চলবে রোববার (১২ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের এই সময়ে মানবিক দিক বিবেচনা করেই সব ফ্রন্টলাইনে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। তবে শান্তির বার্তা দিলেও রুশ সেনাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো উসকানি বা পাল্টা হামলা মোকাবিলায় সেনাদের সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে কিয়েভকেও এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার এই আহ্বানে কিয়েভের প্রতিক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তারা সমান পদক্ষেপে সাড়া দিতে নীতিগতভাবে প্রস্তুত। যদিও রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না ইউক্রেন প্রশাসন। অতীত অভিজ্ঞতা টেনে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেও তা লঙ্ঘন করেছে রুশ বাহিনী। ফলে এই ঘোষণাকে সন্দেহের চোখেই দেখছে কিয়েভ।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে প্রায় ৮০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত ফ্রন্টলাইনে দুই পক্ষই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল মস্কো, কিন্তু মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। প্রতিবারই এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের জন্য এই ৩২ ঘণ্টা কিছুটা স্বস্তির সুযোগ নিয়ে এলেও সামরিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন কেবলই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। একদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও অন্যদিকে ফ্রন্টলাইনে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। এই সংক্ষিপ্ত বিরতি আদতে কতটা কার্যকর হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটুকু স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

















