ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে ট্রাম্পের ১০ দিনের আল্টিমেটাম: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ০১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ইস্যুতে সমঝোতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি ‘ভিন্ন পথে’ মোড় নিতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দেন। তেহরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের ধরন ঠিক কী হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। মার্কিন সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে তেহরানও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে বা স্বার্থে কোনো ধরনের আঘাত হানা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই শর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

​সব মিলিয়ে আগামী ১০ দিন বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ১০ দিনের এই সময়সীমা শেষে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইরানকে ট্রাম্পের ১০ দিনের আল্টিমেটাম: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

প্রকাশ : ০১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ইস্যুতে সমঝোতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি ‘ভিন্ন পথে’ মোড় নিতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দেন। তেহরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের ধরন ঠিক কী হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। মার্কিন সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে তেহরানও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে বা স্বার্থে কোনো ধরনের আঘাত হানা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই শর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

​সব মিলিয়ে আগামী ১০ দিন বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ১০ দিনের এই সময়সীমা শেষে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।