ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে মুসলিমদের উপর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলা

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ০৫:১৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৬ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মধ্যপ্রদেশের সিহোরার আজাদ চক এলাকায় মন্দির ও মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, মসজিদে তারাবির নামাজ চলাকালীন জনৈক মুসলিম যুবক মন্দিরের আরতির শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তুচ্ছ এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র জনতা দেশীয় অস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম পাড়ায় চড়াও হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা কেবল বসতবাড়ির সম্পদই নষ্ট করেনি, বরং নারীদের উদ্দেশ্যে চরম অবমাননাকর ও অশালীন হুমকি প্রদান করেছে। সহিংসতার একপর্যায়ে একটি মাজার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সহিংসতা দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের সময় হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার বদলে পুলিশ মসজিদ থেকে ৪৯ জন মুসল্লিকে আটক করে নিয়ে যায়।

​সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসপি) সম্পদ উপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মৃদু বলপ্রয়োগ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। বর্তমানে এই ঘটনায় পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্পোরেটর এরশাদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ একতরফাভাবে নিরীহ মানুষদের গ্রেপ্তার করেছে। মন্দির ভাঙচুরের প্রধান মামলায় ধৃত ৪৯ জনের সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

সিহোরার পাশাপাশি কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। কর্ণাটকের বাগলকোট জেলার কিলা ওনি এলাকায় শিব জয়ন্তীর মিছিল একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাথর ও চটি ছোড়ার অভিযোগে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রমোদ মুথালিকের মতো নেতাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

​অন্যদিকে, হায়দ্রাবাদের আম্বারপেটে শিবাজী জয়ন্তীর মিছিল একটি মসজিদের সামনে থামিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গান ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারাবিহ শেষে বের হওয়া মুসল্লিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ভারতে মুসলিমদের উপর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলা

প্রকাশ : ০৫:১৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মধ্যপ্রদেশের সিহোরার আজাদ চক এলাকায় মন্দির ও মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, মসজিদে তারাবির নামাজ চলাকালীন জনৈক মুসলিম যুবক মন্দিরের আরতির শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তুচ্ছ এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র জনতা দেশীয় অস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম পাড়ায় চড়াও হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা কেবল বসতবাড়ির সম্পদই নষ্ট করেনি, বরং নারীদের উদ্দেশ্যে চরম অবমাননাকর ও অশালীন হুমকি প্রদান করেছে। সহিংসতার একপর্যায়ে একটি মাজার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সহিংসতা দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের সময় হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার বদলে পুলিশ মসজিদ থেকে ৪৯ জন মুসল্লিকে আটক করে নিয়ে যায়।

​সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসপি) সম্পদ উপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মৃদু বলপ্রয়োগ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। বর্তমানে এই ঘটনায় পাঁচটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্পোরেটর এরশাদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ একতরফাভাবে নিরীহ মানুষদের গ্রেপ্তার করেছে। মন্দির ভাঙচুরের প্রধান মামলায় ধৃত ৪৯ জনের সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব না ছড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

সিহোরার পাশাপাশি কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। কর্ণাটকের বাগলকোট জেলার কিলা ওনি এলাকায় শিব জয়ন্তীর মিছিল একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাথর ও চটি ছোড়ার অভিযোগে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রমোদ মুথালিকের মতো নেতাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

​অন্যদিকে, হায়দ্রাবাদের আম্বারপেটে শিবাজী জয়ন্তীর মিছিল একটি মসজিদের সামনে থামিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গান ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারাবিহ শেষে বের হওয়া মুসল্লিরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।