মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন মোড়: ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুদ্ধের পরিধি বাড়ার আশঙ্কা
- প্রকাশ : ১২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / ৩৮ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি যুক্ত হলো ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইয়েমেন থেকে সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হলো।
রয়টার্স ও এএফপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করার পরপরই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। হামলার সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে আইডিএফ সারা দেশে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রায় ১৫ মিনিট টানটান উত্তেজনা বিরাজ করার পর পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করা হয় এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।
হামলার ঠিক আগেই ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হুথি উপদলের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পূর্ণশক্তি নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবেন। হুথিরা তাদের সামরিক অভিযানের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করেছে: যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিলে।লোহিত সাগরকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল সামরিক কাজে ব্যবহার করা হলে। ইরান, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরাক ও লেবাননের ওপর আগ্রাসন বৃদ্ধি পেলে।
বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি সাফ জানিয়েছেন, তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না।
ইয়েমেনের শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু ‘জাইদি’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী হলো হুথি, যারা নিজেদের ‘আনসার আল্লাহ’ নামে পরিচয় দেয়। নব্বইয়ের দশকে হুসেইন আল-হুথির হাত ধরে এই গোষ্ঠীর উত্থান। বর্তমানে এর নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল মালিক আল-হুথি। তারা মূলত ইরান-নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার সাথে হামাস এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আরও বহুমুখী ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এতদিন সংঘাত মূলত ইসরায়েল, ইরান ও লেবানন সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও হুথিদের সরাসরি অংশগ্রহণে এখন লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যিক রুটগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইয়েমেনে আক্রমণ চালায়, তবে যুদ্ধের দাবানল পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যে, হুথিদের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তনের সূচনা করে কি না।

















