মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাত্তা না পেয়ে, পাকিস্তান কে দালাল হিসেবে অবহিত করলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শংকর
- প্রকাশ : ১২:৫০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / ৩৫ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটে ভারত কোনো ‘দালাল’ বা মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত বুধবার (২৫ মার্চ) পার্লামেন্টে আয়োজিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলোর প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর জবাবে এস জয়শঙ্কর বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদের এই সংযোগকারী ভূমিকা মোটেও নতুন কিছু নয়। ১৯৮১ সাল থেকেই পাকিস্তান এই ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই দৌড়ঝাঁপে অবাক হওয়ার মতো কোনো নতুনত্ব নেই এবং ভারত নিজস্ব কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বিরোধীরা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান যখন শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তখন ভারত কেন ‘নীরব দর্শক’ হয়ে আছে। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধ সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর এবং এটি দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সরকার আরও আশ্বস্ত করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় প্রবাসী এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং তা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাকিস্তান বর্তমানে মিশর ও তুরস্কের সঙ্গে মিলে পর্দার আড়ালে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শেহবাজ শরিফের এই প্রস্তাবটি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছেন। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।
সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের এই ব্যাখ্যাকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার অভিযোগ করেন, ভারত যখন এই সংকট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, তখন পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। বিরোধীরা এই বিষয়ে সংসদে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত সঠিক সময়ে যথাযথ কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

















