ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নৌবাহিনী প্রধানের মৃত্যুতে ইরানের কঠিন প্রতিশোধের শপথ: ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে বিধ্বংসী আঘাতের হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ১০:২২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ৫১ বার পাঠিত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা ট্যাংসিরির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও ভয়াবহ ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার খাতাম-অল-অ্যানবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সিনিয়র কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাডমিরাল ট্যাংসিরি শাহাদাত বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জেনারেল আবদোল্লাহি জানান, সাহসী ও দক্ষ এই কমান্ডারের হাতের গৌরবময় পতাকা কখনোই মাটিতে পড়তে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইআরজিসি যোদ্ধারা খুব শীঘ্রই শত্রুপক্ষকে এমন এক আঘাত করবে যা হবে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ।
বিবৃতিতে অ্যাডমিরাল ট্যাংসিরিকে একজন একনিষ্ঠ ও বিচক্ষণ দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি পারস্য উপসাগরে ইরানের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, শাহাদাতের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের চলমান সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না।
ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, দেশের এই বীর নায়কের পবিত্র রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তাঁর দেখানো পথ এখন আরও শক্তিশালীভাবে অনুসরণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বেআইনি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন।
ওই হামলার প্রতিবাদে এবং প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রতিদিন ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

নৌবাহিনী প্রধানের মৃত্যুতে ইরানের কঠিন প্রতিশোধের শপথ: ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে বিধ্বংসী আঘাতের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ : ১০:২২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা ট্যাংসিরির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও ভয়াবহ ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার খাতাম-অল-অ্যানবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সিনিয়র কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাডমিরাল ট্যাংসিরি শাহাদাত বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জেনারেল আবদোল্লাহি জানান, সাহসী ও দক্ষ এই কমান্ডারের হাতের গৌরবময় পতাকা কখনোই মাটিতে পড়তে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইআরজিসি যোদ্ধারা খুব শীঘ্রই শত্রুপক্ষকে এমন এক আঘাত করবে যা হবে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ।
বিবৃতিতে অ্যাডমিরাল ট্যাংসিরিকে একজন একনিষ্ঠ ও বিচক্ষণ দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি পারস্য উপসাগরে ইরানের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, শাহাদাতের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের চলমান সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না।
ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, দেশের এই বীর নায়কের পবিত্র রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তাঁর দেখানো পথ এখন আরও শক্তিশালীভাবে অনুসরণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বেআইনি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন।
ওই হামলার প্রতিবাদে এবং প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রতিদিন ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।