ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪০ বার পাঠিত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

​মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার লোহিত সাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘আর্লি বার্ক’ ক্লাস ডেসট্রয়ারে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। গত মাসে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় যৌথ মহড়া শেষে ফেরার পথে মার্কিন হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস ও ১০০ নাবিক নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই পালটা হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​ ইরানি সামরিক বাহিনী এই হামলার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডেসট্রয়ারটি যখন মাঝ সমুদ্রে অন্য একটি সাপ্লাই জাহাজের সাথে জ্বালানি সংগ্রহের (রিফুয়েলিং) কাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তটি বেছে নেয় ইরান। জ্বালানি সংগ্রহের সময় জাহাজগুলোর নড়াচড়া করার ক্ষমতা বা ম্যানুভারেবিলিটি প্রায় থাকে না বললেই চলে।

​প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ইরান এখানে ‘স্যাচুরেশন স্ট্রাইক’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। উচ্চ উচ্চতা থেকে প্রচণ্ড গতিতে আসা হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘গদ-৩৮০’ এবং সমুদ্রের পানির সমান্তরালে রাডার ফাঁকি দিয়ে উড়ে আসা ক্রুজ মিসাইল ‘তালাইয়েহ’ একই সাথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাহাজের অত্যাধুনিক ‘ইজিস’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সাথে দুই ধরনের আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই নিখুঁত স্ট্রাইক সম্ভব হয়েছে।

 হামলায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন ডেসট্রয়ারের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি বহনকারী সাপ্লাই জাহাজটিতে হামলার পর বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই হামলার ভয়াবহতা আধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

​পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়াশিংটন সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ‘কৌশলগত নীরবতা’ পালন করে। এর আগে আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার গ্রুপে হামলার সময়ও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই ধরনের ধীর প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

​ ভারত মহাসাগরে এই হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এখন হুমকির মুখে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির এই ভয়াবহ পালটা আঘাত প্রমাণ করছে যে, সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থানে ইরান পূর্বের তুলনায় আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশ : ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

​মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার লোহিত সাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘আর্লি বার্ক’ ক্লাস ডেসট্রয়ারে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। গত মাসে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় যৌথ মহড়া শেষে ফেরার পথে মার্কিন হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস ও ১০০ নাবিক নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই পালটা হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​ ইরানি সামরিক বাহিনী এই হামলার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডেসট্রয়ারটি যখন মাঝ সমুদ্রে অন্য একটি সাপ্লাই জাহাজের সাথে জ্বালানি সংগ্রহের (রিফুয়েলিং) কাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তটি বেছে নেয় ইরান। জ্বালানি সংগ্রহের সময় জাহাজগুলোর নড়াচড়া করার ক্ষমতা বা ম্যানুভারেবিলিটি প্রায় থাকে না বললেই চলে।

​প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ইরান এখানে ‘স্যাচুরেশন স্ট্রাইক’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। উচ্চ উচ্চতা থেকে প্রচণ্ড গতিতে আসা হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘গদ-৩৮০’ এবং সমুদ্রের পানির সমান্তরালে রাডার ফাঁকি দিয়ে উড়ে আসা ক্রুজ মিসাইল ‘তালাইয়েহ’ একই সাথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাহাজের অত্যাধুনিক ‘ইজিস’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সাথে দুই ধরনের আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই নিখুঁত স্ট্রাইক সম্ভব হয়েছে।

 হামলায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন ডেসট্রয়ারের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি বহনকারী সাপ্লাই জাহাজটিতে হামলার পর বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই হামলার ভয়াবহতা আধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

​পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়াশিংটন সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ‘কৌশলগত নীরবতা’ পালন করে। এর আগে আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার গ্রুপে হামলার সময়ও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই ধরনের ধীর প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

​ ভারত মহাসাগরে এই হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এখন হুমকির মুখে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির এই ভয়াবহ পালটা আঘাত প্রমাণ করছে যে, সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থানে ইরান পূর্বের তুলনায় আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।