চীনের স্পাই স্যাটেলাইট এখন ইরানের কব্জায়: টার্গেটে মার্কিন ঘাঁটি
- প্রকাশ : ০৭:২১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৪ বার পাঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও শক্তিশালী সমীকরণ তৈরি করেছে ইরান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক-প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা অবিশ্বাস্যভাবে বাড়িয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নির্ভুল হামলার পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্ট-এ প্রকাশিত ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘টিইই-জিরো ওয়ান বি’ (TEE-01B) নামক স্পাই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই উপগ্রহটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এর মাধ্যমে ইরানি কমান্ডাররা এখন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির মতো স্পর্শকাতর মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর স্থাপনাগুলোর ‘রিয়েল-টাইম’ তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ (Beidou) নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলার আগে যেমন নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা যাচ্ছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিক যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে।
চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সামরিক সহায়তার অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে এ ধরনের সামরিক সহায়তা প্রদান করে, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই কারিগরি সহযোগিতা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার নামান্তর। এতে শুধু ইরান নয়, বরং তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর প্রথাগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘স্যাটেলাইট কূটনীতি’ একদিকে যেমন বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন এক অধ্যায় স্পষ্ট করছে।

















