ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নেই রুট পারমিট, চালকের নেই লাইসেন্সও: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্বাধীনতা পরিবহন- চার পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ গাড়ি।

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ১২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫১ বার পাঠিত

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

 

আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ‘স্বাধীনতা পরিবহন’ নামের রুট পারমিটবিহীন অবৈধ মিনিবাস। নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জ-আরিচা রুটে চলাচলকারী এই গাড়িগুলোর কাগজে-কলমে কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই অবৈধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট, যা মহাসড়কে গাড়ি নামার সঙ্গে সঙ্গেই চালকদের পকেট কাটছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে গাড়ি নামানোর পর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে স্লিপ বা নানা অজুহাতে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয় চালকদের। এর মধ্যে তাহেরের নেতৃত্বে নবীনগর এলাকা থেকে প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬০ টাকা, ইসলামপুরে ২০ টাকা, ঢুলিভিটায় ২০ টাকা এবং বারোবাড়িয়াতে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে এই চাঁদার টাকা পরিশোধ করার পরই কেবল গাড়িগুলো মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।

​বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলার কথা নয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই এই মিনিবাসগুলো চলাচল করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব গাড়ি চালনা করা চালকদের বেশিরভাগেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও, লাইসেন্সহীন চালক এবং রুট পারমিটবিহীন এসব যানের অবাধ চলাচল সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীনতা পরিবহনের বেশ কিছু গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই এই রুটে চলাচল করছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অংকের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোখের সামনে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

​অবৈধভাবে পরিচালিত এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং গাড়িগুলোর রুট পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

নেই রুট পারমিট, চালকের নেই লাইসেন্সও: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্বাধীনতা পরিবহন- চার পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ গাড়ি।

প্রকাশ : ১২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ‘স্বাধীনতা পরিবহন’ নামের রুট পারমিটবিহীন অবৈধ মিনিবাস। নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জ-আরিচা রুটে চলাচলকারী এই গাড়িগুলোর কাগজে-কলমে কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই অবৈধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট, যা মহাসড়কে গাড়ি নামার সঙ্গে সঙ্গেই চালকদের পকেট কাটছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে গাড়ি নামানোর পর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে স্লিপ বা নানা অজুহাতে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয় চালকদের। এর মধ্যে তাহেরের নেতৃত্বে নবীনগর এলাকা থেকে প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬০ টাকা, ইসলামপুরে ২০ টাকা, ঢুলিভিটায় ২০ টাকা এবং বারোবাড়িয়াতে ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে এই চাঁদার টাকা পরিশোধ করার পরই কেবল গাড়িগুলো মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।

​বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলার কথা নয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই এই মিনিবাসগুলো চলাচল করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব গাড়ি চালনা করা চালকদের বেশিরভাগেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও, লাইসেন্সহীন চালক এবং রুট পারমিটবিহীন এসব যানের অবাধ চলাচল সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাধীনতা পরিবহনের বেশ কিছু গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই এই রুটে চলাচল করছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অংকের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোখের সামনে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

​অবৈধভাবে পরিচালিত এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং গাড়িগুলোর রুট পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।