ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

অফিসের পিয়নের মাধ্যমে ঘুষ আদায়: আশুলিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে কানুনগো মনিরুলের বিরুদ্ধে রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ০৯:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৮ বার পাঠিত

 

​সাভারের আশুলিয়া সহকারী ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফাইল আটকে রাখা এবং বড় অঙ্কের ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিসটির কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাইল নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট ‘রেট’ বা হার নির্ধারণ করে টাকা আদায়ের এই সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নির্দিষ্ট অঙ্কের উৎকোচ প্রদান না করলে ফাইল আটকে রাখা এবং শুনানি না করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে ফাইলের ধরন অনুযায়ী ঘুষের আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • পিকে (পুনর্বাসন) ফাইল: ২৩,০০০ টাকা
  • এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) ফাইল: ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকা
  • সাধারণ ফাইল: ৩,৫০০০ টাকা

​এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে আসা ফাইলের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘুষের অর্থ কানুনগো সরাসরি নিজের হাতে নেন না; বরং অফিসের নৈশপ্রহরী মানিকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে তা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত এই অর্থ জমা দিলেই কোনো ধরনের জটিলতা বা শুনানি ছাড়াই দ্রুত ফাইল পাস হয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর থেকেই এই অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, অফিসে পা রাখলেই নানা অজুহাতে তাদের ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টো টাকা না দিলে সেবা পাওয়ার কোনো আশাই থাকে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম মানবেতর ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ভূমি সেবা মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার, কিন্তু এখানে তা এখন প্রকাশ্য বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।

​এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট ও উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

অফিসের পিয়নের মাধ্যমে ঘুষ আদায়: আশুলিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে কানুনগো মনিরুলের বিরুদ্ধে রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।

প্রকাশ : ০৯:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

​সাভারের আশুলিয়া সহকারী ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফাইল আটকে রাখা এবং বড় অঙ্কের ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিসটির কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাইল নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট ‘রেট’ বা হার নির্ধারণ করে টাকা আদায়ের এই সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নির্দিষ্ট অঙ্কের উৎকোচ প্রদান না করলে ফাইল আটকে রাখা এবং শুনানি না করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে ফাইলের ধরন অনুযায়ী ঘুষের আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • পিকে (পুনর্বাসন) ফাইল: ২৩,০০০ টাকা
  • এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) ফাইল: ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকা
  • সাধারণ ফাইল: ৩,৫০০০ টাকা

​এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে আসা ফাইলের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘুষের অর্থ কানুনগো সরাসরি নিজের হাতে নেন না; বরং অফিসের নৈশপ্রহরী মানিকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে তা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত এই অর্থ জমা দিলেই কোনো ধরনের জটিলতা বা শুনানি ছাড়াই দ্রুত ফাইল পাস হয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর থেকেই এই অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, অফিসে পা রাখলেই নানা অজুহাতে তাদের ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টো টাকা না দিলে সেবা পাওয়ার কোনো আশাই থাকে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম মানবেতর ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ভূমি সেবা মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার, কিন্তু এখানে তা এখন প্রকাশ্য বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।

​এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট ও উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।