তামাক নিয়ন্ত্রণে নাটক-সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য বন্ধের নীতিমালা হচ্ছে: অতিরিক্ত সচিব
- প্রকাশ : ১১:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৪ বার পাঠিত

তামাক ও সিগারেট খাত থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও এর বিপরীতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, তামাকের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতর এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তথ্য অধিদফতর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. শাহ আলম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব জানান, নাটক ও সিনেমার পাশাপাশি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ধূমপানের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই তা চূড়ান্ত করা হবে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, তামাকবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান ও সফল করতে সারা দেশে কর্মরত তথ্য অফিসাররা কার্যকর প্রচার চালাবেন। জনমত তৈরি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে এই আন্দোলন সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুখ্য আলোচক ও মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরুপরতন চৌধুরী জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে মারা যান। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হন এবং এক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। মুখের ক্যানসারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইন অমান্য করে নাটক, সিনেমা ও ওটিটি কনটেন্টে অবাধে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যার ফলে তরুণ সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সৃজনশীলতা বা শিল্পের স্বার্থে ধূমপানের দৃশ্য দেখানোর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে চলচ্চিত্র ছাড়পত্র দেওয়ার সময় বিষয়টি আরও জোরালোভাবে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সভায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংগঠন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-এর টেকনিক্যাল এডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন।
ভাইটাল স্ট্রাটেজিস, মানস, প্রত্যাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিইআর এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি ও তথ্য অধিদফতরের ৪০ জনের অধিক কর্মকর্তা এই সভায় অংশ নেন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।













