ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ধামেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি চাল চুরির মহাৎসব : গ্রাম পুলিশ দিয়ে চাল জব্দ করিয়েও শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিলেন চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ০২:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৩ বার পাঠিত

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল অবৈধভাবে খোলা বাজারে কেনাবেচার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় ডিলার, অসাধু ব্যবসায়ী এবং গুদামঘরের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তা থামছে না।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি ধামশ্বর এলাকায় ৩৪ বস্তা সরকারি চাল বোঝাই দুটি ভ্যান সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সেগুলোর গতিরোধ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালকরা জানান, ধামশ্বর বাজারের ডিলার নার্গিসের পয়েন্ট থেকে চালগুলো সংগ্রহ করে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাইদুর নামক এক ব্যবসায়ী কার্ডধারীদের কাছ থেকে ৯০০ টাকায় চাল কিনে ঘিওর গুদামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৯৬০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রির কথা স্বীকার করলেও এর কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি।

​ঘিওর খাদ্য গুদামের ডিলার রফিক মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করলেও গুদামের অস্থায়ী এক কর্মচারী জানান, মূলত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই গুদামে চাল আসা-যাওয়া করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের কারণে প্রকৃত ও দুস্থ ব্যক্তিরা সরকারি এই সুবিধার বাইরে থেকে গেছেন। যাদের চালের প্রয়োজন নেই, এমন ব্যক্তিরা কার্ড পেলেই তা ডিলারের নিকট বিক্রি করে দেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র ডিলার ও গুদাম কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় চালের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের মাঝে কার্ড বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

​এদিকে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলীকে অবহিত করলে তিনি গঙ্গাচরণ রাজবংশী নামের এক গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়ে ৩৪ বস্তা চাল জব্দ করে পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেন। উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের সামনে গ্রাম পুলিশ চালগুলো গুনে বুঝে নিলেও রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে তা পুনরায় অসাধু চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী দাবি করেন যে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা গ্রাম পুলিশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল ছিনতাই করে নিয়ে গেছেন এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে দফাদার রমেলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ‘মিমাংসা’ করা হয়েছে, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

​এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, সরকারি চাল এ উপায়ে খোলা বাজারে কেনাবেচার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বিষয়টিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ধামেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি চাল চুরির মহাৎসব : গ্রাম পুলিশ দিয়ে চাল জব্দ করিয়েও শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিলেন চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী

প্রকাশ : ০২:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাল অবৈধভাবে খোলা বাজারে কেনাবেচার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় ডিলার, অসাধু ব্যবসায়ী এবং গুদামঘরের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তা থামছে না।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি ধামশ্বর এলাকায় ৩৪ বস্তা সরকারি চাল বোঝাই দুটি ভ্যান সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সেগুলোর গতিরোধ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালকরা জানান, ধামশ্বর বাজারের ডিলার নার্গিসের পয়েন্ট থেকে চালগুলো সংগ্রহ করে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাইদুর নামক এক ব্যবসায়ী কার্ডধারীদের কাছ থেকে ৯০০ টাকায় চাল কিনে ঘিওর গুদামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৯৬০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রির কথা স্বীকার করলেও এর কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি।

​ঘিওর খাদ্য গুদামের ডিলার রফিক মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করলেও গুদামের অস্থায়ী এক কর্মচারী জানান, মূলত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই গুদামে চাল আসা-যাওয়া করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের কারণে প্রকৃত ও দুস্থ ব্যক্তিরা সরকারি এই সুবিধার বাইরে থেকে গেছেন। যাদের চালের প্রয়োজন নেই, এমন ব্যক্তিরা কার্ড পেলেই তা ডিলারের নিকট বিক্রি করে দেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র ডিলার ও গুদাম কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় চালের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের মাঝে কার্ড বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

​এদিকে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলীকে অবহিত করলে তিনি গঙ্গাচরণ রাজবংশী নামের এক গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়ে ৩৪ বস্তা চাল জব্দ করে পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেন। উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের সামনে গ্রাম পুলিশ চালগুলো গুনে বুঝে নিলেও রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে তা পুনরায় অসাধু চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী দাবি করেন যে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা গ্রাম পুলিশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল ছিনতাই করে নিয়ে গেছেন এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গ্রাম পুলিশ গঙ্গাচরণ জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে দফাদার রমেলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ‘মিমাংসা’ করা হয়েছে, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

​এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, সরকারি চাল এ উপায়ে খোলা বাজারে কেনাবেচার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বিষয়টিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।