দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় নিষিদ্ধ আ.লীগের নেতাদের নিয়ে এফসিসির সেমিনার বাতিল
- প্রকাশ : ০২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫ বার পাঠিত

ভারতের নয়াদিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে। ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির জন্য দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় তা ভেস্তে যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় এফসিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সেমিনার বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই সেমিনারের যৌথ আয়োজক ছিল বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’। দিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এফসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ জানিয়েছেন, পুলিশ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই অনুষ্ঠান আয়োজনে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তা-ই নয়, অনুষ্ঠান বন্ধ করার পাশাপাশি সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিলের অধিকার রাখে। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
এফসিসির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, সেমিনারে প্যানেল বক্তা হিসেবে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদের থাকার কথা ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী নূরান নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম এবং ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবালও বক্তার তালিকায় ছিলেন। পাশাপাশি ভারত, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের বেশ কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ আলোচক হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসের শুরুর দিকে এফসিসির আয়োজনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে। ওই ঘটনার পর ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে নতুন কোনো প্রকাশ্য আয়োজন নিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চায়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা























