পাটুরিয়া-ঢাকা রুটে সেলফির নৈরাজ্য: পারমিটবিহীন বাসের দাপট, বেপরোয়া রেষারেষি ও নেপথ্যে বিপুল চাঁদাবাজি
- প্রকাশ : ০৭:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬৪ বার পাঠিত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রধান প্রবেশদ্বারখ্যাত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-ঢাকা রুটে রুট পারমিটের তোয়াক্কা না করে চলছে সেলফি পরিবহন এর একক আধিপত্য। চার শতাধিক বাসের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একদিকে সড়কে সৃষ্টি করা হচ্ছে প্রাণঘাতী বিশৃঙ্খলা, অন্যদিকে চালানো হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সুসংগঠিত চাঁদাবাজি।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে এই রুটে বেশ কয়েকটি পরিবহন চললেও একক আধিপত্য বিস্তার করেছে সেলফি পরিবহন। পাটুরিয়া কাউন্টার থেকে প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর ছেড়ে যাওয়া এই বাসগুলো পথিমধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার আশায় মহাসড়কে বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এক বাস অন্য বাসকে ওভারটেক করতে না দিয়ে মাঝসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টির মতো ঘটনাও নিত্যদিনের। এর ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরির পাশাপাশি অহরহ ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। আর চালক-হেলপারদের এই বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ জানালে উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুট পারমিট ছাড়া বাস চালানো ও লাইন সচল রাখার সুবিধা দিতে প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন গেটলক পাস বা জিপি-র নামে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ফেরিঘাট কাউন্টারে প্রতিদিন চলা প্রায় দুই শতাধিক বাস থেকে তোলা প্রায় ৬০ হাজার টাকার সিংহভাগই পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পেছনের কুশীলবদের কাছে। মাঠ পর্যায়ে সুলতান নামের এক ব্যক্তি সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করলেও চাঁদাবাজির মূল নিয়ন্ত্রকরা আড়ালেই রয়ে গেছেন।
চাঁদা আদায়ের বিষয়ে সংগ্রাহক সুলতান প্রথমে তা কর্মচারীদের বেতনের টাকা দাবি করলেও পরবর্তীতে সংগৃহীত টাকা ঢাকায় সেলফি পরিবহনের মূল কার্যালয়ে পাঠানোর কথা জানান। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সেলফি পরিবহনের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
বরঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনলঙ্ঘনকারী বাসের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিনিয়ত মামলা দিচ্ছে। মহাসড়কে যানজট ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজির কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংক্ষুব্ধ যাত্রী ও সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, লোকদেখানো অভিযান না চালিয়ে ফোন কল রেকর্ড (সিডিআর) ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের মূল হোতাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে বিআরটিএ-এর মাধ্যমে অবৈধ রুট পারমিটধারী বাস চিহ্নিত করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।









