ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সাভারে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের তুমুল সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৪০, টহল গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ১০:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পাঠিত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য, তিনজন সংবাদকর্মী এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যবহৃত একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

​বুধবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন একাধিক কারখানার শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আটক সহকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে এটি তাদের টানা পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি ছিল।

​সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে মহাসড়কে জড়ো হতে শুরু করেন। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় লেনে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকালের দিকেই ওই এলাকার অন্তত ১১টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

​প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় পদ্মার মোড় এলাকায় উত্তেজিত শ্রমিকরা সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলমের ব্যবহৃত একটি টহল পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন।

​খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধার তৎপরতা চালান।

​অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ থাকে।

​সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন ও চিত্রগ্রাহক উজ্জ্বল এবং স্টার নিউজের সোহান সিরাজি আহত হন। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে জানা গেছে।

​সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ওসি সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

​এদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সার্বিক নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিল্পাঞ্চলে থমথমে অবস্থা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাভারে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের তুমুল সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৪০, টহল গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

প্রকাশ : ১০:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য, তিনজন সংবাদকর্মী এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যবহৃত একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

​বুধবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন একাধিক কারখানার শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আটক সহকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে এটি তাদের টানা পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি ছিল।

​সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে মহাসড়কে জড়ো হতে শুরু করেন। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় লেনে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকালের দিকেই ওই এলাকার অন্তত ১১টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

​প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় পদ্মার মোড় এলাকায় উত্তেজিত শ্রমিকরা সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলমের ব্যবহৃত একটি টহল পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন।

​খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধার তৎপরতা চালান।

​অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ থাকে।

​সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন ও চিত্রগ্রাহক উজ্জ্বল এবং স্টার নিউজের সোহান সিরাজি আহত হন। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে জানা গেছে।

​সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ওসি সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

​এদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সার্বিক নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিল্পাঞ্চলে থমথমে অবস্থা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।