ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগ: আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক কর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১২:০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ বার পাঠিত

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠন বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট ও ছবি নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে প্রচার করছেন। উদাহরণস্বরূপ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে উসকানিমূলক মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর ও মিরপুর এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিওতেও তাকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

​গত চার দিন ধরে বকেয়া বেতন ও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার নানা আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংক্ষুব্ধ মহল। আন্দোলনস্থলগুলোতে অনেককে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র হাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নিতে দেখা গেছে। গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

​এদিকে, আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে নাশকতার অভিযোগে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাসড়ক অবরোধ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, ব্যাংক, যানবাহন এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

​প্রতিবেদনটিতে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা প্রশাসনিক বক্তব্য যুক্ত করতে চাইলে তা পরিমার্জন করে দেওয়া সম্ভব। আপনার পত্রিকা প্রকাশের জন্য আর কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি?

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগ: আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক কর্মী আটক

প্রকাশ : ১২:০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠন বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট ও ছবি নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে প্রচার করছেন। উদাহরণস্বরূপ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে উসকানিমূলক মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর ও মিরপুর এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিওতেও তাকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

​গত চার দিন ধরে বকেয়া বেতন ও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার নানা আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংক্ষুব্ধ মহল। আন্দোলনস্থলগুলোতে অনেককে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র হাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নিতে দেখা গেছে। গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

​এদিকে, আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে নাশকতার অভিযোগে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাসড়ক অবরোধ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, ব্যাংক, যানবাহন এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

​প্রতিবেদনটিতে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা প্রশাসনিক বক্তব্য যুক্ত করতে চাইলে তা পরিমার্জন করে দেওয়া সম্ভব। আপনার পত্রিকা প্রকাশের জন্য আর কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি?