ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: শত শত ভবন ও কোটি কোটি ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১২:২৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ বার পাঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডারগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। এতে কয়েকশ ভবন ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ডলার।

​বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ইরান বা এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার শুরুতে ইরান শত্রু পক্ষের আক্রমণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা ও বিমান রাখার হ্যাঙ্গারগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এরপর গুদাম ও আবাসনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক আঘাত হানে।

​পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। হামলার পর মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র বা পেন্টাগন ও সেন্টকমের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, স্বাধীন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের ঘাঁটিসমূহ

ইরানি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। এর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়, যাতে বহু হ্যাঙ্গার ও আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়। এছাড়া ক্যাম্প বুহরিংয়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে।

​রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রথম আঘাত

যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা দুর্বল করতে তৎপর হয়। কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং জর্ডানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন রাডার সুরক্ষাকেন্দ্র ও বহনযোগ্য রাডারগুলোতে নির্ভুল হামলা চালিয়ে সেগুলোকে অকার্যকর করা হয়। বিশেষ করে কোটি কোটি ডলার মূল্যের এসব উন্নত রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা মারত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

​বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের বড় ক্ষতি

রাডার ধ্বংসের পর বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক বিমান, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং সেনাদের আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় নজরদারি বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও হ্যাঙ্গার, রাডার এবং নজরদারি ড্রোনে আঘাত হানে তেহরান।

​বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ও সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোনের বড় আকারের হামলার মুখে বিশ্বের যেকোনো দেশের সামরিক ঘাঁটির এ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ঘাঁটিগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: শত শত ভবন ও কোটি কোটি ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস

প্রকাশ : ১২:২৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডারগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। এতে কয়েকশ ভবন ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ডলার।

​বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ইরান বা এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার শুরুতে ইরান শত্রু পক্ষের আক্রমণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা ও বিমান রাখার হ্যাঙ্গারগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এরপর গুদাম ও আবাসনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক আঘাত হানে।

​পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। হামলার পর মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র বা পেন্টাগন ও সেন্টকমের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, স্বাধীন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের ঘাঁটিসমূহ

ইরানি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। এর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়, যাতে বহু হ্যাঙ্গার ও আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়। এছাড়া ক্যাম্প বুহরিংয়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে।

​রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রথম আঘাত

যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা দুর্বল করতে তৎপর হয়। কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং জর্ডানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন রাডার সুরক্ষাকেন্দ্র ও বহনযোগ্য রাডারগুলোতে নির্ভুল হামলা চালিয়ে সেগুলোকে অকার্যকর করা হয়। বিশেষ করে কোটি কোটি ডলার মূল্যের এসব উন্নত রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা মারত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

​বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের বড় ক্ষতি

রাডার ধ্বংসের পর বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক বিমান, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং সেনাদের আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় নজরদারি বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও হ্যাঙ্গার, রাডার এবং নজরদারি ড্রোনে আঘাত হানে তেহরান।

​বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ও সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোনের বড় আকারের হামলার মুখে বিশ্বের যেকোনো দেশের সামরিক ঘাঁটির এ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ঘাঁটিগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।