রোয়াইল ভূমি অফিসে দুর্নীতির রাজত্ব: কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
- প্রকাশ : ১২:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১২২ বার পাঠিত

নান্নু মিয়া (স্টাফ রিপোর্টার):
ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি জমা দিয়েও ভূমি সংক্রান্ত কাজে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ দালালদের শরণাপন্ন হন। এসব দালাল অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
একজন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী বলেন, “একটি খতিয়ান বা নামজারি করতে হলে সরকারি ফি’র চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইলের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়।”
স্থানীয়দের দাবি, দালাল সিন্ডিকেটের মূল পৃষ্ঠপোষক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাই। এতে একদিকে সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে অফিসটি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি চার বছর ধরে একই পদে দায়িত্বে রয়েছেন এবং এ সময়ে ঘুষ-দালালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এক সাংবাদিক তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “সব ম্যানেজ করেই আছি। আপনি আমার নিউজ করে কি করবেন।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেজাউলের টেবিলে কোনো ফাইল গেলে টাকা ছাড়া সেই ফাইলে স্বাক্ষর মেলে না। ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিমের হয়ে টাকা আদায় ও দালালি কার্যক্রম পরিচালনা করেন আমিনুল নামে এক ব্যক্তি। তিনি দালালদের মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা দ্রুত দালাল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং ভূমি অফিসে দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।










