সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের সঠিক তথ্যভান্ডারে ৩ সদস্যের কমিটি
- প্রকাশ : ০৬:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭২ বার পাঠিত

সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলা, মামলা, নির্যাতন, কারাবরণ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ইউনিটের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে সেলের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবিরকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন পরিচালক (কমিটি সমন্বয় ও অনুমোদন) সিয়াম রশিদ এবং আশরাফুল আলম খান।
এই কমিটি বিগত ৫৭ বছরে সারাদেশে কতজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়ে কতজন স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং বর্তমানে কতজন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন—সে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ ও যাচাই করবে।
পাশাপাশি, সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা, তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি, বিচারিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় নথি পর্যালোচনা ও সংগ্রহ করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যসমূহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তালিকা প্রস্তুতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকা তৈরির পর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় সরেজমিনে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ সরেজমিন কার্যক্রমকালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক এবং কেন্দ্রীয় ইউনিটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিজে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। তাঁদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য, মামলার নথিপত্র, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ করে সার্বিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা, হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির সঠিক চিত্র উন্মোচন করা, ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে অবস্থান নেওয়া এবং ক্ষেত্রভেদে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংগঠনিক সহায়তা নিশ্চিত করাই এই বৃহৎ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংস্থার নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে গত কয়েক দশকে দেশে সাংবাদিকদের ওপর ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনাগুলোর একটি বিশ্বস্ত ও সার্বজনীন তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।



















