ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

টিসিবির পণ্য পেতে নতুন নির্দেশিকা জারি: বাদ পড়বেন এক পরিবারের একাধিক সুবিধাভোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৮:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৯ বার পাঠিত

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬ শীর্ষক এই নির্দেশিকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংজ্ঞা ও কারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই নির্দেশনায় উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলার পরিচালনা, তথ্য ডিজিটাল সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে তদারকির সার্বিক কাঠামো তুলে ধরা হয়।

​কারা পাবেন টিসিবির কার্ড:

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা ও চাতালশ্রমিক, কারখানা শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত, অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং দুস্থ পরিবারের শিশু ও প্রতিবন্ধী সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই সুবিধা পাবেন না। সুবিধাভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

​ডিজিটাল ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় তথ্য:

টিসিবির কার্ডের জন্য উপকারভোগীর নিজস্ব নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি প্রয়োজন হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপ-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করে সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

​পণ্য ও মূল্যের বিবরণ:

টিসিবির নির্ধারিত সুবিধাভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা দরে কিনতে পারছেন। প্রতি কার্ডে দুই লিটার তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে দেওয়া হবে পাঁচ কেজি চাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি দুই লাখ টন তেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। রোজা ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।

​কঠোর তদারকি ও সিসিটিভি ক্যামেরা:

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কমিটিতে থাকবেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করবে ‘ট্যাগ টিম’। বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মূল্যতালিকা টানানো এবং পণ্য বিক্রির তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​টিসিবির সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। তবে অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে, যা সংশোধন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন এই ডিজিটাল ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ফলে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং চলতি অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নামবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

টিসিবির পণ্য পেতে নতুন নির্দেশিকা জারি: বাদ পড়বেন এক পরিবারের একাধিক সুবিধাভোগী

প্রকাশ : ০৮:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬ শীর্ষক এই নির্দেশিকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংজ্ঞা ও কারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই নির্দেশনায় উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলার পরিচালনা, তথ্য ডিজিটাল সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে তদারকির সার্বিক কাঠামো তুলে ধরা হয়।

​কারা পাবেন টিসিবির কার্ড:

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা ও চাতালশ্রমিক, কারখানা শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত, অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং দুস্থ পরিবারের শিশু ও প্রতিবন্ধী সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই সুবিধা পাবেন না। সুবিধাভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

​ডিজিটাল ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় তথ্য:

টিসিবির কার্ডের জন্য উপকারভোগীর নিজস্ব নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি প্রয়োজন হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপ-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করে সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

​পণ্য ও মূল্যের বিবরণ:

টিসিবির নির্ধারিত সুবিধাভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা দরে কিনতে পারছেন। প্রতি কার্ডে দুই লিটার তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে দেওয়া হবে পাঁচ কেজি চাল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি দুই লাখ টন তেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। রোজা ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।

​কঠোর তদারকি ও সিসিটিভি ক্যামেরা:

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কমিটিতে থাকবেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করবে ‘ট্যাগ টিম’। বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মূল্যতালিকা টানানো এবং পণ্য বিক্রির তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​টিসিবির সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। তবে অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে, যা সংশোধন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন এই ডিজিটাল ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ফলে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং চলতি অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নামবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।