নাগরপুরে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক নাটকের অভিযোগ
- প্রকাশ : ০২:২৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৭০৯ বার পাঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোঃ মনির হোসেন উপজেলার কলমাইদ গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, মনির হোসেন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ (কারেন্ট মিটার) ও সেচ পাম্প পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার সহজ-সরল কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। জনৈক এক ভুক্তভোগী জানান, সেচ পাম্পের আশায় তিনি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দিলেও দীর্ঘদিনে পাম্প পাননি, টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, টাকা ফেরত চেয়ে গ্রাম্য সালিশ ডাকলেও মনিরের বাহিনীর ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় চলাচলকারী মাটিবাহী যানবাহন এবং অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন মনির ও তার অনুসারীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্রাট নামে এক যুবককে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহের জন্য পাঠান মনির। সম্রাটের সঙ্গে না বুঝেই যোগ দেন তার পরিচিত সিয়াম। অভিযোগ রয়েছে, মনির নিজেই সম্রাটকে প্রলুব্ধ করেছিলেন এবং ধরা পড়লে জামিনের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়াবা নিয়ে ফেরার পথে মনির ও তার সহযোগীরা সম্রাট ও সিয়ামকে আটকে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, সিয়ামকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এই সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। গ্রেফতারের পর সম্রাটকে ছাড়িয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করা হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এমন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। ভুক্তভোগীরা তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত পেতে এবং এই পরিকল্পিত মাদক নাটকের সুষ্ঠু তদন্তে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
















