ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ছাত্রদলকর্মী রাইভি হত্যাকাণ্ড: যাত্রাবাড়ীতে গ্রেপ্তার ৪, নেপথ্যে পরিকল্পিত খুন ও লাশ গুমের চেষ্টা

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ১২:৫১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / ২৭ বার পাঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী সাদমান সাইফ রাইভি (২৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), মো. ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) এবং আলী হোসেন (৫০)। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​নিহত সাদমান সাইফ রাইভি সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং তেজগাঁওয়ের একটি ওষুধ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। গত ২৩ মার্চ রাতে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহের গায়ের জার্সিতে ‘RAIVI’ লেখা দেখে তার পরিবারের সদস্যরা পরিচয় শনাক্ত করেন।

​তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ২৪ মার্চ ভোরে গ্রেপ্তারকৃত আরমান ও ফাহিম রাইভিকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৩ মার্চ রাতে একটি বাসার ছাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিকটিম ও আসামিরা একসঙ্গেই ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চের কোনো এক সময় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রাইভিকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়।

​পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন মো. জুবায়েরকে ইতিমধ্যেই কৌশলে বিদেশে (অস্ট্রেলিয়া) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধ ঢাকতে গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টাও চালিয়েছিল ঘাতক চক্র। রাইভির পরিবারের পক্ষ থেকে গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ছাত্রদলকর্মী রাইভি হত্যাকাণ্ড: যাত্রাবাড়ীতে গ্রেপ্তার ৪, নেপথ্যে পরিকল্পিত খুন ও লাশ গুমের চেষ্টা

প্রকাশ : ১২:৫১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী সাদমান সাইফ রাইভি (২৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আরমান হক বিপু ওরফে যুব (২১), মো. ইসমাঈল হোসেন ফাহিম ওরফে শাফিন (২১), কামরুল ইসলাম রানা (৩০) এবং আলী হোসেন (৫০)। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​নিহত সাদমান সাইফ রাইভি সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং তেজগাঁওয়ের একটি ওষুধ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। গত ২৩ মার্চ রাতে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহের গায়ের জার্সিতে ‘RAIVI’ লেখা দেখে তার পরিবারের সদস্যরা পরিচয় শনাক্ত করেন।

​তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ২৪ মার্চ ভোরে গ্রেপ্তারকৃত আরমান ও ফাহিম রাইভিকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৩ মার্চ রাতে একটি বাসার ছাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিকটিম ও আসামিরা একসঙ্গেই ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চের কোনো এক সময় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রাইভিকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়।

​পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন মো. জুবায়েরকে ইতিমধ্যেই কৌশলে বিদেশে (অস্ট্রেলিয়া) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধ ঢাকতে গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টাও চালিয়েছিল ঘাতক চক্র। রাইভির পরিবারের পক্ষ থেকে গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।