ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

তিন মাসে ৮৫৪ খুন: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের প্রত্যাবর্তনে অস্থির সারা দেশ

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ১১:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৭ বার পাঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ঢাকায় অন্তত ১৬ জন খুন হয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল ১০৭। এর মধ্যে মার্চে ৩৩, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮ এবং জানুয়ারিতে ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে সারাদেশে মোট ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে জামিনে মুক্তি পাওয়া এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম। তালিকাভুক্ত অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ জগতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুন্ডি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশীয় সহযোগীদের দিয়ে টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ও মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর অন্তত ২০টি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অর্ধশতাধিক সক্রিয় সহযোগী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল ও ইমনের মতো সন্ত্রাসীদের অনুসারীদের মধ্যে নিয়মিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কাওরানবাজার, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড এলাকায় ফুটপাত, আড়ত ও লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ওয়াসা ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেও তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমার মৃত্যু এবং ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া রাজধানীর কাফরুলে একটি গার্মেন্টস কারখানায় ঢুকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং আতঙ্ক সৃষ্টিতে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় মফিজুর রহমান মামুন ও কিলার ইব্রাহিমের মতো পলাতক সন্ত্রাসীরা ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এ বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জামিনপ্রাপ্ত এবং বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের গতিবিধি ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং বা নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দমনে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

তিন মাসে ৮৫৪ খুন: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের প্রত্যাবর্তনে অস্থির সারা দেশ

প্রকাশ : ১১:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ঢাকায় অন্তত ১৬ জন খুন হয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল ১০৭। এর মধ্যে মার্চে ৩৩, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮ এবং জানুয়ারিতে ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে সারাদেশে মোট ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে জামিনে মুক্তি পাওয়া এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম। তালিকাভুক্ত অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ জগতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুন্ডি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশীয় সহযোগীদের দিয়ে টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ও মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর অন্তত ২০টি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অর্ধশতাধিক সক্রিয় সহযোগী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল ও ইমনের মতো সন্ত্রাসীদের অনুসারীদের মধ্যে নিয়মিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কাওরানবাজার, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড এলাকায় ফুটপাত, আড়ত ও লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ওয়াসা ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেও তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমার মৃত্যু এবং ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া রাজধানীর কাফরুলে একটি গার্মেন্টস কারখানায় ঢুকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং আতঙ্ক সৃষ্টিতে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় মফিজুর রহমান মামুন ও কিলার ইব্রাহিমের মতো পলাতক সন্ত্রাসীরা ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এ বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জামিনপ্রাপ্ত এবং বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের গতিবিধি ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং বা নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দমনে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।