শিবালয়ে বালুমহাল দখলে নিতে মরিয়া সন্ত্রাসীরা: হুমকির পরদিনই ম্যানেজারকে গুলি করে হত্যা
- প্রকাশ : ০৯:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬৮ বার পাঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বালুমহাল এলাকা এখন এক আতঙ্কের জনপদ। বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রথমে প্রাণনাশের হুমকি এবং তার ঠিক পরদিনই এক ম্যানেজারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশি তৎপরতা শুরু হলেও জনমনে কাটছে না শঙ্কা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ এপ্রিল। তেওতা বালুমহালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাওছার আলম খানকে একটি বিদেশি নম্বর থেকে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়, বাল্কহেড জাহাজে বালু বিক্রি বন্ধ না করলে তাকে সপরিবারে খতম করা হবে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কাওছার আলম ২ এপ্রিল শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৮) করেন।
জিডি করার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সন্ত্রাসীরা তাদের হুমকির নৃশংস বাস্তবায়ন ঘটায়। ২ এপ্রিল বালুমহালের ইজারাদার পক্ষের ম্যানেজার মিরাজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। নিহত মিরাজের বাড়ি পাবনা জেলার দাপুনিয়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা করছে এবং এই হত্যাকাণ্ড সেই পরিকল্পনারই অংশ।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তেওতা চরাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের আলোতে এভাবে হুমকি দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারা অবিলম্বে নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, “হুমকির বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম। এর পরপরই এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।
কাওছার আলমের জিডি এবং ম্যানেজার মিরাজ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র খুঁজতে বর্তমানে কাজ করছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।



