ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ধামরাইয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে জমি দখল ও সাইনবোর্ড টানানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৭ বার পাঠিত

ঢাকার ধামরাইয়ে বিজ্ঞ আদালতের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তিতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বিরোধপূর্ণ জমির একাংশ দখল করে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কাইয়ুম খান নামে এক ব্যক্তির ইন্ধনে বিবাদী পক্ষ এ ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

​মামলা ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার দ্বিমুখা মৌজাস্থিত এস.এ ৭১ নং খতিয়ানের ১২৭ দাগ এবং আর.এস ২৭২ নং খতিয়ানের ১৫৬ ও ১৫৭ নং দাগের মোট ১১১ শতাংশ ভূমির মধ্যে ২১ শতাংশ জমি নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। উক্ত জমি পৈতৃক ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রাখা এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করার দাবি করেন কানন নেহার ও মাসুদ আক্তার খানমের পক্ষে আমমোক্তার সবুজ খান।

​উক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধামরাই আদালত, ঢাকায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং- ২৮৯/২০২৬) দায়ের করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

​তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই সম্প্রতি কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে বিবাদী পক্ষ জবরদখলের উদ্দেশ্যে জমিতে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই মামলাধীন ২১ শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমির অভ্যন্তরে ১২ শতাংশ জমিতে তারা রাতারাতি নিজেদের মালিকানা দাবি করে নতুন একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, জমিতে স্থায়ী অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে রড, ইট ও বালুসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাদীপক্ষকে তাদের নিজ স্বত্ব দখলীয় সীমানায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

​মামলার আমমোক্তার সবুজ খান অভিযোগ করে বলেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কাইয়ুম খান ও বিবাদী পক্ষ বেআইনিভাবে আমাদের জমি দখলের মত্ততায় মেতে উঠেছে। এর আগে গত ২৫ জুন রাতেও বিবাদীরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের নির্মিত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কাইয়ুম খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখল এবং উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ও বিরোধপূর্ণ জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ধামরাইয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে জমি দখল ও সাইনবোর্ড টানানোর অভিযোগ

প্রকাশ : ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে বিজ্ঞ আদালতের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তিতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বিরোধপূর্ণ জমির একাংশ দখল করে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কাইয়ুম খান নামে এক ব্যক্তির ইন্ধনে বিবাদী পক্ষ এ ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

​মামলা ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার দ্বিমুখা মৌজাস্থিত এস.এ ৭১ নং খতিয়ানের ১২৭ দাগ এবং আর.এস ২৭২ নং খতিয়ানের ১৫৬ ও ১৫৭ নং দাগের মোট ১১১ শতাংশ ভূমির মধ্যে ২১ শতাংশ জমি নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। উক্ত জমি পৈতৃক ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রাখা এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করার দাবি করেন কানন নেহার ও মাসুদ আক্তার খানমের পক্ষে আমমোক্তার সবুজ খান।

​উক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধামরাই আদালত, ঢাকায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং- ২৮৯/২০২৬) দায়ের করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

​তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই সম্প্রতি কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে বিবাদী পক্ষ জবরদখলের উদ্দেশ্যে জমিতে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই মামলাধীন ২১ শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমির অভ্যন্তরে ১২ শতাংশ জমিতে তারা রাতারাতি নিজেদের মালিকানা দাবি করে নতুন একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, জমিতে স্থায়ী অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে রড, ইট ও বালুসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাদীপক্ষকে তাদের নিজ স্বত্ব দখলীয় সীমানায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

​মামলার আমমোক্তার সবুজ খান অভিযোগ করে বলেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কাইয়ুম খান ও বিবাদী পক্ষ বেআইনিভাবে আমাদের জমি দখলের মত্ততায় মেতে উঠেছে। এর আগে গত ২৫ জুন রাতেও বিবাদীরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের নির্মিত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কাইয়ুম খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখল এবং উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ও বিরোধপূর্ণ জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।