আশুলিয়ায় ৩০টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান বাছেদ দেওয়ানের
- প্রকাশ : ০৪:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৪ বার পাঠিত

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের ৩০টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন আশুলিয়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাছেদ দেওয়ান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই এবং সবাই আমরা ভাই-ভাই। মানুষের একটাই আসল পরিচয়—আমরা মানুষ। যারা ধর্মে-ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা মূলত সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। এরা সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর, তাই এদের একযোগে প্রতিহত করতে হবে।
বাছেদ দেওয়ান আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা, চাঁদাবাজি কিংবা জবরদখলের স্থান নেই। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল এবং সবসময় মানুষের চাহিদার প্রতিফলন ঘটিয়েই কাজ করে থাকে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সকল ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর কাছে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা করেন। একই সাথে তিনি সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক, জমি দখল কিংবা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত এমন কাউকে ভোট দেওয়া উচিত হবে না। একজন সৎ ও ভালো মানুষকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে তবেই ইউনিয়নের সত্যিকারের উন্নয়ন ও জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।
বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। তিনি নিজে তিনবার নির্বাচন করলেও অন্যায়ভাবে ফলাফলের পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক এখন দেশের জনগণই।
দলের ভেতরের কিছু সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছে এবং যাদের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি, তারা এখন নিজেদের দুঃসময়ের কান্ডারী বলে দাবি করছে—যা অত্যন্ত হাস্যকর। সাভার-আশুলিয়ার মানুষ ভালো করেই জানে কারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিল আর কারা সুবিধাবাদী ভূমিকা পালন করেছে। ওই সময়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা শান্তিতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারেনি।
পরিশেষে, যোগ্যতা বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রার্থী নির্বাচনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অযোগ্য কাউকে নির্বাচিত করলে সে কখনো জনগণের উপকার করতে পারবে না। তাই সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিতে হবে।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে বাছেদ দেওয়ানের সাথে পাথালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।















