ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গুমের বিচারে আরও কঠোর আইন করা হবে: সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ০৬:২৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮৫ বার পাঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আরও সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইন প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। গুমকারীরা যাতে আইনের কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সংস্কার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​এর আগে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান গুম থেকে ফিরে আসার নিজের রোমহর্ষক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য উদ্বেগের।

​জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কোনো অবিচার করবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আগের অর্ডিন্যান্সে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছিল, যা এই ভয়াবহ অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল। সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের আওতায় গুমের বিচার করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিদ্যমান গুম আইন এবং আইসিটি আইনের মধ্যে যেন কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় না থাকে এবং অপরাধীরা যেন ছাড় না পায়, সেজন্যই আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

​আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই সরকার মজলুমের সরকার। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন। তাই গুমের শিকার ব্যক্তিরা আমাদেরই স্বজন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষ যেন আরও হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্যই মানবাধিকার কমিশন আইনকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।

​এর আগে বক্তৃতাকালে ব্যারিস্টার আরমান আয়নাঘরের অন্ধকার দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত জীবন্ত কবরের অনুভূতি নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেওয়ায় তারা নতুন জীবন পেয়েছেন। বাংলার মাটিতে যেন আর কাউকে এমন জুলুমের শিকার হতে না হয়, সেজন্য তিনি গুম বিরোধী কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

গুমের বিচারে আরও কঠোর আইন করা হবে: সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬:২৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আরও সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইন প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। গুমকারীরা যাতে আইনের কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সংস্কার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​এর আগে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান গুম থেকে ফিরে আসার নিজের রোমহর্ষক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য উদ্বেগের।

​জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কোনো অবিচার করবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আগের অর্ডিন্যান্সে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছিল, যা এই ভয়াবহ অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল। সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের আওতায় গুমের বিচার করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিদ্যমান গুম আইন এবং আইসিটি আইনের মধ্যে যেন কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় না থাকে এবং অপরাধীরা যেন ছাড় না পায়, সেজন্যই আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

​আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই সরকার মজলুমের সরকার। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন। তাই গুমের শিকার ব্যক্তিরা আমাদেরই স্বজন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষ যেন আরও হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্যই মানবাধিকার কমিশন আইনকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।

​এর আগে বক্তৃতাকালে ব্যারিস্টার আরমান আয়নাঘরের অন্ধকার দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত জীবন্ত কবরের অনুভূতি নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেওয়ায় তারা নতুন জীবন পেয়েছেন। বাংলার মাটিতে যেন আর কাউকে এমন জুলুমের শিকার হতে না হয়, সেজন্য তিনি গুম বিরোধী কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।