আইনি জটিলতায় ঝুলছে শিক্ষকদের পদোন্নতি, শাটডাউনে অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
- প্রকাশ : ০৪:৫২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১১১ বার পাঠিত

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি
পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এবার ‘ফুল একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। গত বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬০ জন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের আটকে থাকা পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতির দাবিতে গত ১০ এপ্রিল শিক্ষকেরা উপাচার্যকে আলটিমেটাম দেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৯ এপ্রিল থেকে আমরণ অনশনে বসেন সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। পরবর্তীতে গত সোমবার থেকে শিক্ষকেরা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও শাটডাউনের ঘোষণা দেন।
শিক্ষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাম্প্রতিক একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সংবিধি ও বিধি প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের দাবি, বর্তমানে সংবিধি অনুমোদিত না থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়ে আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের পুরনো নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি চাচ্ছেন। তবে সরকার ২০১৭ সালে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করে, যা ২০২১ সালে পরিপত্র আকারে জারি করা হয়। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি গ্রহণ করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পুরনো কাঠামোতে রয়ে গেছে। এই পুরনো নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে গিয়ে ইউজিসির অডিট আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
উপাচার্য আরও জানান, নতুন সংবিধি প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির অধিকাংশ শিক্ষক পদত্যাগ করায় প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। শিক্ষকেরা সহযোগিতা করলে দ্রুত সংবিধি পাস করে পদোন্নতি চালু করা সম্ভব হবে। এই জটিলতার কারণে গত দেড় বছর ধরে নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও আটকে আছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শাটডাউনের ফলে সেশনজটের তীব্র শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকদের এমন কঠোর কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। তারা অবিলম্বে শিক্ষার পরিবেশ সচল করার দাবি জানান।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান জানান, আইন ও বিধিমালার বাইরে গিয়ে পদোন্নতি দিলে ভবিষ্যতে শিক্ষকেরা অবসরের সময় বড় ধরনের অডিট আপত্তির মুখে পড়তে পারেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার বৈঠক ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মের মধ্যে থেকেই এই সংকটের সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।
বর্তমানে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় অন্তত অনার্স পরীক্ষাগুলো চালু রাখার জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এবং জরুরি প্রয়োজনে সার্টিফিকেট ও মার্কশিট প্রদানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।










