ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৩০০ বছরের ঐতিহ্য, শ্রীপুরের দশমী মাঠে অর্ধশতাধিক প্রতিমার মিলনমেলা

বিশেষ প্রতিনিধি: সোহাগ রানা
  • প্রকাশ : ০৬:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ বার পাঠিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসব। উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কাচারি মাঠে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এ উৎসবে একত্রিত হয় বিভিন্ন মন্দিরের অর্ধশতাধিক প্রতিমা। প্রতিমা প্রদর্শন, শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ এবং পারুলী নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এ উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চারও প্রতীক। প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে পূজারি ও ভক্তরা জড়ো হন এ মাঠে। সব প্রতিমা একত্রিত করার পর সেগুলোর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে প্রতিমাগুলো পাশের পারুলী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

এবারের প্রতিমা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

শ্রীপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু অরুণ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, প্রায় ৩০০ বছর ধরে একই মাঠে বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, যা তাঁরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারণ করে চলেছেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের বন্ধন যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের কোথাও বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অরুণ চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এ মাঠে বিজয়া দশমীর উৎসব পালন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৩০০ বছর ধরে এখানে প্রতিমা একত্রিত করে উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা একই স্থানে এনে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ এবং পরে নদীতে বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যটি ধরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যের প্রতি টান ও সম্মিলিত উৎসবের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান, রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহীন, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অর্জুন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পূজারি ও ভক্তরা।

তিন শতাব্দীর ধারাবাহিকতায় রাজাবাড়ির কাচারি মাঠে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতির এক উল্লেখযোগ্য প্রকাশ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ উৎসবের ধারাবাহিকতা স্থানীয় মানুষের কাছে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বকে তুলে ধরছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

৩০০ বছরের ঐতিহ্য, শ্রীপুরের দশমী মাঠে অর্ধশতাধিক প্রতিমার মিলনমেলা

প্রকাশ : ০৬:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসব। উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কাচারি মাঠে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এ উৎসবে একত্রিত হয় বিভিন্ন মন্দিরের অর্ধশতাধিক প্রতিমা। প্রতিমা প্রদর্শন, শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ এবং পারুলী নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এ উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চারও প্রতীক। প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে বিভিন্ন মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে পূজারি ও ভক্তরা জড়ো হন এ মাঠে। সব প্রতিমা একত্রিত করার পর সেগুলোর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে প্রতিমাগুলো পাশের পারুলী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

এবারের প্রতিমা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

শ্রীপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু অরুণ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, প্রায় ৩০০ বছর ধরে একই মাঠে বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, যা তাঁরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারণ করে চলেছেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের বন্ধন যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের কোথাও বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অরুণ চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এ মাঠে বিজয়া দশমীর উৎসব পালন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৩০০ বছর ধরে এখানে প্রতিমা একত্রিত করে উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা একই স্থানে এনে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ এবং পরে নদীতে বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যটি ধরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যের প্রতি টান ও সম্মিলিত উৎসবের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান, রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহীন, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অর্জুন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পূজারি ও ভক্তরা।

তিন শতাব্দীর ধারাবাহিকতায় রাজাবাড়ির কাচারি মাঠে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতির এক উল্লেখযোগ্য প্রকাশ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ উৎসবের ধারাবাহিকতা স্থানীয় মানুষের কাছে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বকে তুলে ধরছে।