মানিকগঞ্জে ড্রেজার দুর্ঘটনার তিন দিন পরও অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত, নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি
- প্রকাশ : ০৩:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২২ বার পাঠিত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজার ডুবে এক শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আজিমনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ চলছিল। এ সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় লোড করা ড্রেজারটি উল্টে যায় এবং ড্রেজারকর্মী জুলহাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ জুলহাস মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির ছেলে। তিনি লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের অধীনে কাজ করতেন। এ ঘটনায় হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বেপরোয়াভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনেরা নদীর তীরে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কত প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত হবে? তাঁরা অবিলম্বে নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সীমানার বাইরে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) এখতিয়াধীন। প্রশাসন থেকে নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইজারাদার বিল্লাল খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শারমিন সুলতানা জানান, নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই এবং অবৈধ উত্তোলন প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















