ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড্ডা জাগরণী সংসদে ২৪ ঘণ্টা জুয়ার আসর: তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিকরা

স্টাফ রিপোর্টার: নান্নু মিয়া
  • প্রকাশ : ০৬:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৮ বার পাঠিত

​রাজধানীর বাড্ডা এলাকার জাগরণী সংসদে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ক্লাবটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধ জুয়া চালিয়ে আসছে, যা এলাকায় অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

​অভিযোগ রয়েছে, জাগরণী ক্লাবের এই জুয়া বাণিজ্য থেকে বাড্ডা থানার পুলিশ নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকে। যে কারণে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জুয়া বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ক্লাবের ভেতরের এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাসুদ ও সোহেল নামের দুই ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

​অবৈধ জুয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে গত কিছুদিন আগে জাগরণী ক্লাবে যান বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় ক্লাবের পরিচালক মাসুদ ও সোহেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হকিস্টিক, ক্রিকেট ব্যাট, স্টাম্প ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সাংবাদিক মামুন মোল্লা, এ আর মজিদ শরীফ এবং সোহাগ জোয়ারদারকে রক্তাক্ত করা হয়।

​হামলার পর সাংবাদিক সোহাগ ও শরীফকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জখম করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকদের দুটি ভিডিও ক্যামেরা ভেঙে  ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

​জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে বাড্ডা থানার এসআই আরাফাত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী ভূমিকা বজায় রাখে এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের জিম্মি করে জোরপূর্বক লিখিত আদায় করা হয়।

​প্রকাশ্যে জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বাড্ডা জাগরণী সংসদসহ আশপাশের এলাকার সমস্ত অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী মাসুদ ও সোহেলসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

​উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুয়া ও অনলাইন বেটিং নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর আইনগত পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় বাড্ডা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাড্ডা জাগরণী সংসদে ২৪ ঘণ্টা জুয়ার আসর: তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিকরা

প্রকাশ : ০৬:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​রাজধানীর বাড্ডা এলাকার জাগরণী সংসদে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ক্লাবটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধ জুয়া চালিয়ে আসছে, যা এলাকায় অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

​অভিযোগ রয়েছে, জাগরণী ক্লাবের এই জুয়া বাণিজ্য থেকে বাড্ডা থানার পুলিশ নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকে। যে কারণে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জুয়া বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ক্লাবের ভেতরের এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাসুদ ও সোহেল নামের দুই ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

​অবৈধ জুয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে গত কিছুদিন আগে জাগরণী ক্লাবে যান বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় ক্লাবের পরিচালক মাসুদ ও সোহেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হকিস্টিক, ক্রিকেট ব্যাট, স্টাম্প ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সাংবাদিক মামুন মোল্লা, এ আর মজিদ শরীফ এবং সোহাগ জোয়ারদারকে রক্তাক্ত করা হয়।

​হামলার পর সাংবাদিক সোহাগ ও শরীফকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জখম করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকদের দুটি ভিডিও ক্যামেরা ভেঙে  ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

​জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে বাড্ডা থানার এসআই আরাফাত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী ভূমিকা বজায় রাখে এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের জিম্মি করে জোরপূর্বক লিখিত আদায় করা হয়।

​প্রকাশ্যে জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বাড্ডা জাগরণী সংসদসহ আশপাশের এলাকার সমস্ত অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী মাসুদ ও সোহেলসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

​উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুয়া ও অনলাইন বেটিং নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর আইনগত পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় বাড্ডা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।