পলাশবাড়ীতে ক্ষতিকর রঙ ও ইটের গুঁড়ায় তৈরি হচ্ছে হলুদ, মরিচ
- প্রকাশ : ০৩:২৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮৩ বার পাঠিত

সাভারের আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজাল উপকরণ মিশিয়ে গুঁড়া মরিচ ও হলুদ তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে এ কারবার চালিয়ে আসছে চক্রটি। কারখানাটির মালিকের নাম হামিদুল।
যেভাবে তৈরি হয় ভেজাল মসলা:
অতিরিক্ত মুনাফা লোভে ভেজাল মসলা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান। হলুদের উজ্জ্বল রঙ আনতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত টেক্সটাইল ডাই বা মেটানিয়ল ইয়েলো। পরিমাণ বাড়াতে এর সাথে যুক্ত করা হয় কাঠের গুঁড়া, চালের কুঁড়া, স্টার্চ, চক পাউডার ও ইটের মিহি গুঁড়া। অন্যদিকে, মরিচ গুঁড়ায় লোভনীয় লাল রঙ ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয় টেক্সটাইল রেড কিংবা রোডাডাইন বি-এর মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর অজৈব রং। এর সাথে লাল ইটের গুঁড়া ও ভুসি মিশিয়ে ওজন বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি ওই কারখানার অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা তথ্য ও চিত্র ধারণ করার সময় কারখানার মালিক হামিদুল ও তার লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে কারখানার এক কর্মচারী মুঠোফোনে ঢাকা জেলার এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তার সাথে সাংবাদিকদের কথা বলিয়ে দেন। ফোনালাপে ওই কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, আমার এলাকার এই লোক, আপনারা কেন এখানে গেছেন? প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন একজন কর্মকর্তার সরাসরি ভেজাল কারবারির পক্ষ নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খাবারে এ ধরনের ভেজাল মানুষের যকৃৎ, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পলাশবাড়ীর এই অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পাশাপাশি, ভেজাল কারবারির পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তার তদবিরের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।













