ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বিশাল অঙ্কের ঋণের পথে ভারত: প্রথম ছয় মাসেই লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ ট্রিলিয়ন রুপি

প্রতিবেদকের নাম, পদবী
  • প্রকাশ : ০৫:০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৭৫ বার পাঠিত

 

অর্থনৈতিক ডেস্ক:

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বড় ধরনের ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার কোটি (৮.২ ট্রিলিয়ন) রুপি বাজার থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে শুক্রবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকই বছরের প্রথম ছয় মাসে সংগ্রহ করতে চায় দিল্লি। তবে গত বাজেটের তুলনায় এবার মোট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ১৬.৯ ট্রিলিয়ন রুপি করা হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী সিকিউরিটি বন্ডের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে অপরিশোধিত তেল আমদানির ধারা অব্যাহত রাখতে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

​সরকারের এই বিশাল ঋণ পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই দেশটির বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের ১০ বছর মেয়াদী সরকারি বন্ডের সুদের হার (Yield) ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে করে সার্বভৌম বন্ডের সুদের হার আরও বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​দেশটির শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই বিশাল ঋণের চাপ সামলানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, চলতি অর্থবছরে ভারতের রাজকোষ ঘাটতি বা বাজেট ঘাটতি প্রায় ১.৬ ট্রিলিয়ন রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্ডের পরিমাণ কমিয়ে আণবিক বন্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বিশাল অঙ্কের ঋণের পথে ভারত: প্রথম ছয় মাসেই লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ ট্রিলিয়ন রুপি

প্রকাশ : ০৫:০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

 

অর্থনৈতিক ডেস্ক:

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বড় ধরনের ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার কোটি (৮.২ ট্রিলিয়ন) রুপি বাজার থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে শুক্রবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকই বছরের প্রথম ছয় মাসে সংগ্রহ করতে চায় দিল্লি। তবে গত বাজেটের তুলনায় এবার মোট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ১৬.৯ ট্রিলিয়ন রুপি করা হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী সিকিউরিটি বন্ডের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে অপরিশোধিত তেল আমদানির ধারা অব্যাহত রাখতে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

​সরকারের এই বিশাল ঋণ পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই দেশটির বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের ১০ বছর মেয়াদী সরকারি বন্ডের সুদের হার (Yield) ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে করে সার্বভৌম বন্ডের সুদের হার আরও বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​দেশটির শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই বিশাল ঋণের চাপ সামলানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, চলতি অর্থবছরে ভারতের রাজকোষ ঘাটতি বা বাজেট ঘাটতি প্রায় ১.৬ ট্রিলিয়ন রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্ডের পরিমাণ কমিয়ে আণবিক বন্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।