পুরাতন জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত: জরুরি নির্দেশনা দিলো ভূমি মন্ত্রণালয়
- প্রকাশ : ১০:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬ বার পাঠিত

পুরাতন ভূমি অধিগ্রহণ মামলার আনুষঙ্গিক খাতে জমাকৃত অব্যবহৃত ও অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবের সংযুক্ত তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ ব্যয়, হিসাব সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘ভূমি অধিগ্রহণ আনুষঙ্গিক (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন কন্টিনজেন্সি-এলএসি) খাতের অর্থ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।
নতুন এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত ভূমি অধিগ্রহণ মামলার নথি কনসাইনমেন্টের মাধ্যমে রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত হয়েছে এবং অ্যাওয়ার্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক নিরীক্ষিত হওয়ার পর তিন বছর পার হয়ে গেছে, সেগুলোর বিপরীতে এলএসি খাতে জমাকৃত সমস্ত অব্যবহৃত অর্থ সরকারি হিসাবে জমা দিতে হবে। নির্দেশিকা জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবের সংযুক্ত তহবিলে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ মামলার কার্যক্রম চূড়ান্ত হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ সংশ্লিষ্ট হিসাবে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে এবং এই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত খাতে তা ব্যয় করা যাবে। তবে জমির দখল হস্তান্তর ও হিসাবরক্ষণ বিভাগ কর্তৃক নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত তিন বছর অতিবাহিত হলে, অব্যয়িত উদ্বৃত্ত অর্থ ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে সরকারি তহবিলে পাঠাতে হবে।
ভূমি অধিগ্রহণ মামলার বিপরীতে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অর্থের পাশাপাশি এলএসি খাতের অর্থ একটি পৃথক পার্সোনাল লেজার (পিএল) অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করতে হবে। এই অর্থ সরকারের কোনো রাজস্ব বা আয় নয়, বরং এটি কেবল ভূমি অধিগ্রহণ মামলা ও প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি পৃথক রেজিস্টার ও ক্যাশ বইয়ে এই খাতের হিসাব সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত অর্থের ওপর ৩ শতাংশ এবং ১ কোটি টাকার বেশি হলে ২ শতাংশ হারে এলএসি অর্থ আদায় করা হবে। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যেকোনো অঙ্কের প্রাক্কলিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে এই অর্থ আদায় করতে হবে।
এলএসি খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাধারণত কোনো মামলার বিপরীতে জমাকৃত অর্থ অন্য কোনো মামলার আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ মামলার সঙ্গে অর্থ সমন্বয় করা যেতে পারে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি বছর এলএসি খাতের ব্যয়ের হিসাব এবং কেসভিত্তিক অব্যয়িত অর্থের হিসাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে। এই খাতের সকল ব্যয় প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কার্যালয় তা নিরীক্ষা করবে। নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার ফলে ভূমি অধিগ্রহণ আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা সমস্ত পুরোনো নির্দেশনা, পরিপত্র ও অফিস আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।

















